➡️ An Iconic Landmark of Kolkata ⬅️ হাওড়া ব্রিজের অজানা রহস্য [The Unknown Mystery of Howrah Bridge]

হাওড়া সেতু হল ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি নদীর উপর ইস্পাতের(Steel) তৈরি একটা সেতু। সেতুটি ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ সালে চালু করার সময় সেতুটি নামকরণ করা হয়েছিল মূলত নিউ হাওড়া ব্রিজ(New Howrah Bridge)নামে। হাওড়া সেতুটি শুরু হওয়ার আগে এটি একটি সাধারণ পন্টন সেতু(Pontoon Bridge) ছিল।এই হাওড়া ব্রিজটি হাওড়া এবং কলকাতা শহরকে সংযুক্ত করেছে,এটি একে অপরের বিপরীত তীরে অবস্থিত। ১৪ ই জুন ১৯৬৫ সালে বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় রবীন্দ্র সেতু যিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় ও এশিয়ার নোবেল বিজয়ী। এটি এখনো হাওড়া ব্রিজ নামে পরিচিত এটি কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত প্রতীক। নির্মাণের সময় এটি বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম ক্যান্টিলিভার সেতু ছিল এবং বর্তমানে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দীর্ঘতম সেতু।

☑️ Official Name – The New Howrah Bridge(3rd February 1943)

☑️ Current Name – Rabindra Setu (14 June 1965)

☑️ Others Name – Gateway Of Kolkata, Grand Old lady Of Calcutta.

☑️ Crossing By – Hoogly River (Ganga River)

☑️ Locality – Howrah & Kolkata.

☑️ Designed By – M/S Rendel, Palmer and Tritton.

☑️ Constructed By – Braithwaite, Burn & Jessop Construction Company.

☑️ Construction Start – 1936.

☑️ Construction End – 1942.

☑️ Maintained By – Kolkata Port Trust.

☑️ Opened For Public – 3rd February 1943.

☑️ Daily Traffic – Vehicles – Approx 100,000(One L) and Pedestrians – Approx 150,000(1.5 L)

☑️ Location Link – https://maps.app.goo.gl/zsx8Sn2Nn3yeqgBB6.

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের পর কেটে গেল ১০০ বছর, ব্রিটিশরা ইতিমধ্যে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে গোটা ভারতবর্ষে।১৭৭২ সালে কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হয়ে গেল, এদিকে হুগলি নদীর দুই পাড়ে জাঁকিয়ে বসেছে ইংরেজদের কারবার। কলকাতার উল্টোদিকে হুগলি নদী পেরিয়ে ততদিনে হাওড়া হয়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে স্থলপথের সংযোগ স্থাপনকে নিয়ে। এ বিষয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বহু আলাপ আলোচনার পর অবশেষে ১৮৫৫ – ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে এই হুগলি নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে সেই ভাবনা- চিন্তা আর বেশি দূর এগোয় নি। কেটে গেল আরও পাঁচ বছর।

এবার ডাকা হল ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানির চিফ ইঞ্জিনিয়ার জর্জ টার্নব্যুল (George Turnbull) কে, টার্নব্যুল প্রায় কয়েক মাস ধরে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ওই বছর ১৮৬২ সালের ২৯ শে মার্চ ব্রীজের একটি কল্পচিত্র বা নকশা এঁকে তার যাবতীয় রিপোর্ট-সহ কোম্পানির কাছে জমা দিলেন। কিন্তু এবারও কোন এক অজ্ঞাত কারণে টার্নব্যুলের(Turnbull) রিপোর্ট বাতিল করা হলো ।এর প্রায় ৯ বছর পর অর্থাৎ ১৮৭১ সাল নাগাদ গঠীত হল কোলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট।এই পোর্ট ট্রাস্ট এর অধীনে ইঞ্জিনিয়ার স্যার ব্রাডফোর্ড লেসলির (Sir Bradford Leslie) বানানো নকশায় হুগলি নদীর উপর ১৫২৮ ফুট দীর্ঘ এবং ৪৮ ফুট চওড়া একটি কাঠের পন্টন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল, যা তৈরিতে খরচ হয়েছিল প্রায় ২২ লক্ষ টাকা। সে সময়ে বড় বড় জাহাজ কিংবা স্টিমার চলাচলের জন্য এই ব্রিজটিকে মাঝখান দিয়ে খুলে দেয়া হতো।এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর কাঠের এই সেতুটি যখন সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, তখন একটা নতুন সমস্যা দেখা দিল যখনই কোন বড় জাহাজ কিংবা স্টিমার যেত এই সেতুটিকে মাঝখান থেকে ২০০ ফুটের মতো অংশ খুলে দেওয়া ও জাহাজ চলে গেলে পুনরায় ওই একই স্থানে জুড়ে দেওয়ার সমগ্র প্রক্রিয়াটি ছিল যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ, ফলে সেতুর দু-ধারে শুরু হল তীব্র যানজট। আর এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে তৎকালীন ভারতীয় ব্রিটিশ প্রশাসন পড়লো মহা বিপদে এরপর কেটে গেল আরো ৩০ বছর ।

সময়টা তখন ১৯০৬ সাল বন্দরে চিফ ইঞ্জিনিয়ার জোন স্কট(John Scott), ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার আর এস হিঘেট(R.S Highet)এবং কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ডাব্লিউ.বি ম্যক্কাবের(W.B MacCabe) নেতৃত্বে চিত্তে গঠিত কমিটির যাবতীয় সুবিধা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে নদীতে ভাসমান সেতুর পরিবর্তে একটি ক্যান্টিলিভার ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন।সে সময় সমগ্র বিশ্বে ক্যান্টিলিভার ব্রিজের সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি।তখন কানাডার অন্যতম ক্যান্টিলিভার সেতুটি ভেঙে পড়ায় লেসলি সাহেব সহ অন্যান্য ইঞ্জিনিয়াররা এখানে ক্যান্টিলিভার ব্রিজ তৈরিতে মত দেননি। তাছাড়া বন্দরের কাছে সেতুতে গাড়ি চলাচলের থেকে জাহাজ চলাচল ছিল অধিক গুরুত্বপূর্ন । তাই সে সময়ে ক্যান্টিলিভার সেতুর থেকে ভাসমান সেতু নির্মাণের পাল্লা ভারী ছিল। ইতিমধ্যে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেয়। যার প্রভাব এসে পড়ে ভারতে ও ফলে ব্যয় সাপেক্ষ হাওড়া ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা থমকে যায়।

এভাবে বেশ কয়েক বছর চলার পর আবারও ১৯২১ সালে ব্রিটিশ প্রশাসন মার্টিন এন্ড কোম্পানির মালিক স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জিকে(Sir Rajendranath Mukherjee)সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি কমিটি গঠন করে,যার নাম আর এন কমিটি (Mukherjee committee) রাখা হয়। তারপর ১৯২২ সালে এই আর এন কমিটি (Mukherjee committee) হাওড়া ব্রিজ নির্মাণের জন্য একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করেন।তাতে বলা হয় “এই হুগলি নদীর উপর এমন একটি ক্যান্টিলিভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, যার নিজ দিয়ে অনায়াসে জাহাজ স্টিমার প্রভৃতি যাতায়াত করতে পারবে”।এই উদ্দেশ্যে ১৯২৬ সালের পাশ হয় ‘নিউ হাওড়া ব্রিজ অ্যাক্ট(New Howrah Bridge Act)’এভাবে ব্রিজ তৈরির যাবতীয় পূর্ব প্রস্তুতি নিতে নিতে কেটে গেল আরো কয়েক বছর।অবশেষে, ১৯৩৭ সালে শুরু হল হাওড়া ব্রিজ নির্মাণের কাজ। আর শেষ হলো ১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে।ব্রীজ নির্মাণের পরবর্তী ৬ মাস সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ করার পর ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ব্রিজটিকে খুলে দেওয়া হলো জনসাধারণের উদ্দেশ্যে।১৯৩৭ থেকে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ এই পাঁচ বছরের প্রচেষ্টা আর বিপুল অর্থ ব্যায়ে নির্মিত হল ৭০৫ মিটার দীর্ঘ আর ১৫ মিটার চওড়া এই বিশাল হাওড়া ব্রিজটি।

এই বিশাল আকৃতির ব্রিজটির নির্মাণের পশ্চাতে ঘটে যাওয়া এমন কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট বা তথ্য আছে যা পড়লে বা জানলে আপনার গা শিহরণ দিয়ে উঠবে।

1️⃣ Fact No – 1 ↘️ ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী আজ থেকে ৮০ বছর আগে এই ৭০৫ লিটার দীর্ঘ হাওড়া ব্রিজটি কে তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ২৫ মিলিয়ন বা ২৫০ লক্ষ টাকা।

2️⃣ Fact No – 2 ↘️ শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই কিন্তু সত্যি যে হাওড়া ব্রিজে একটিও নাট বোল্ট নেই। নির্মাণের সময় লোহাকে বাঁকিয়ে রিভেট সিস্টেমে তৈরি করা হয়েছে এই সমগ্র ব্রীজটি। সত্যি এ নির্মাণ একটি বিস্ময়।

3️⃣ Fact No – 3 ↘️ ১৯৬৫ সালের ১৪ই জুন কলকাতার প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত এই ঐতিহাসিক সেতুটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল রবীন্দ্র সেতু এর আগে নাম ছিল দা নিউ হাওড়া ব্রিজ।বর্তমানে এই ব্রিজটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে Kolkata Port Trust.

4️⃣ Fact No – 4 ↘️ আপনি কি জানেন একটি পূর্ণবয়স্ক আফ্রিকান হাতির ওজন কত? হ্যাঁ প্রায় ৮ হাজার কেজি, এইরকম প্রায় ১০৭০ টি হাতিকে একত্রিত করলে যে ওজন দাড়ায় সেটি হল হাওড়া ব্রিজের বর্তমান ওজন। আর এমন একটি দৈত্যাকার ৭০৫ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটি কোন পিলারে সাহায্য ছাড়াই হুগলি নদীর উপর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

5️⃣ Fact No – 5 ↘️ এই বিশাল হাওড়া ব্রিজটি তৈরি করতে লেগেছিল প্রায় ২৬ হাজার টন লোহা, যার মধ্যে ৩ হাজার টন লোহা এসেছিল England থেকে বাকি ২৩ হাজার টন লোহা এসেছিল আমাদের নিজেদের দেশীয় সংস্থা টাটা আয়রন এন্ড স্টিল কোম্পানি থেকে, এটা সত্যিই আমাদের খুব গর্বের বিষয়।

6️⃣ Fact No – 6 ↘️ এই ঐতিহাসিক ব্রীজটি কে একবার রং করতে খরচ হয় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা আর এক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় ৩০ হাজার লিটার সীসা মুক্ত রং।

7️⃣ Fact No – 7 ↘️ এই হাওড়া ব্রীজটি হল বর্তমানে পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম ক্যান্টিলিভার ব্রিজ, কিন্তু নির্মানের সময় এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্যান্টিলিভার ব্রিজ যার উপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১.৫ লক্ষ মানুষ আর ১ লক্ষ গাড়ি চলাচল করে।

8️⃣ Fact No – 8 ↘️ ২৩১৩ ফুট দীর্ঘ ১৫ ফুট চওড়া আর ২৭০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই ব্রিজটির মধ্যে দিয়ে প্রথম যে গাড়িটি চলেছিল সেটি ছিল একটি ধীরগতি সম্পন্ন ট্রাম।

9️⃣ Fact No – 9 ↘️ ১৯৪১ সালে ৭ ডিসেম্বর জাপান আমেরিকার পাল হারবার আক্রমণ করল, সেই কারণেই ভারতীয় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আশঙ্কায় ছিল নব-নির্মিত এই হাওড়া ব্রিজে জাপান যে কোন মুহূর্তে বোমা ফেলতে পারে।তাই কোন রকম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়া ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এই সেতুটিকে।

🔟 Fact No – 10 ↘️ এই ব্রীজটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বড়সড় কোন ভূমিকম্প বা বঙ্গোপসাগরীয় প্রবল ঝরে এটা কোনরকম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না কিন্তু বর্তমানে গবেষকরা বলছেন প্রতিদিন বহু মানুষ এই ব্রিজের লোহায় পান বা গুটকা ফেলে থাকেন যার ক্ষতিকর কেমিক্যাল রিএকশন ধীরে ধীরে ব্রিজের ইস্পাতের ভিতর দারুনভাবে ক্ষতি করছে আর অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে যদি কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয় ভবিষ্যতে তার পরিণাম খুবই ভয়াবহ হতে পারে।

🟥 এই পেজ এ আসার জন্যে এবং মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ! আপনি সবরকম  আপডেট পাবেন এখন এখান থেকে। আপনি দেখুন আমাদের সবরকম Informational Category গুলো Explore করুন।

Thank You ! Visit Again !

Leave a Comment