বাংলার গর্ব ! এবার পদ্মশ্রী সম্মান পেলেন পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার প্রকৃতি প্রেমিক দুখু মাঝি এবং মুখোশ শিল্পী নেপাল সূত্রধর

প্রকৃতি প্রেমিক দুখু মাঝি এবং মুখোশ শিল্পী নেপাল সূত্রধর কে ? কোথায় থাকেন? কি করেন? আর কেনই বা পেলেন পদ্মশ্রী সম্মান? এর সবকিছু বলব শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।

প্রকৃতি প্রেমিক দুখু মাঝি ➡️

🟥 দুখু মাঝি একজন গাছ প্রেমী বা প্রকৃতি প্রেমী মানুষ, যার বয়স প্রায় ৮০ বছর। তিনি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডির সিঁদরিতে ছোট্ট একটা বাড়িতে বসবাস করেন।তিনি একজন শ্রমিক, কাজ করে সংসার চালান। এবার আসি পদ্মশ্রী  সন্মান পাওয়ার কারণ-এ।

তিনি নাকি ছোটবেলা থেকে গাছ লাগাতে ভালোবাসতেন। তিনি পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের সংলগ্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ(০৫) থেকে ছয়(০৬) হাজার গাছ লাগিয়েছেন, এবং সেই গাছের রীতিমতো যত্ন নিয়েছেন। তিনি কখনও স্কুলে যাননি সেভাবে পড়াশোনা করেন  কিন্তু এটা জানে বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দরকার হয় এবং সেটি গাছ থেকে পাওয়া যায়। সেই কারণেই উনি গাছ লাগাতেন। এমনকি তার Biography নিয়ে ২০২২ সালে একটা সিনেমা ও বের হয়। সিনেমার নাম “রুখু মাটির দুখু মাঝি”। আর আজ তিনি পদ্মশ্রী  সন্মান পেলেন।

তাহলে কি তিনি গাছ লাগানোর জন্যে সন্মান পেলেন, হ্যা পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং গাছের প্রতি নেষ্ঠা ভালোবাসার কারণ ই আজকে উনাকে পদ্মশ্রী  সন্মান এনে দিয়েছে।

মুখোশ শিল্পী নেপাল সূত্রধর ➡️

🟥 আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে আজ মুখোশ শিল্পী নেপাল সূত্রধর আপনাদের মধ্যে নেই কিন্তু তার এই প্রাপ্তি আমাদের রাজ্য তথা আমাদের সবার নাম উজ্জ্বল করেছে।

তিনি পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডির চড়িদা তে বসবাস করতেন। তিনি মুখোশ শিল্পী নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছৌ-নৃত্যের মুখোশ বানাতেন এবং নিজে ছৌ-নিত্য করতেন।তার তৈরি ছৌ-নৃত্যের মুখোশ ভারতে তো আছেই। এমন কী বিদেশের মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে। তিনি ভারত এবং ভারতের বাইরে স্পেইন, আমেরিকা, স্কটল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে ছৌ-নিত্য করেছেন।

তিনি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বলে গেছেন আমি পদ্মশ্রী সম্মান পাবোই তার কথা যেন আর সত্যি হলো। এটা পেয়ে তার ফ্যামিলি পরিবার খুবই খুশি কিন্তু দুঃখ একটা জায়গায় উনি যদি থাকতেন তাহলে খুশির পরিমাণটা দ্বিগুণ তিনগুণ হতো।

আপনি কি জানেন! মুখোশ শিল্পী হিসাবে কে প্রথম পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন?হ্যাঁ প্রথম পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন গম্ভীর সিং মুড়া তারপর পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন নেপাল চন্দ্র মাহাতো এবং এখন প্রায় ৪১ বছর পর নেপাল চন্দ্র সূত্রধর পেলেন পদ্মশ্রী সম্মান।আপনি কি জানেন গম্ভীর সিং মুড়া ও এই চড়িদা গ্রামে বসবাস করতেন।

সত্যিই উনাদের এই প্রাপ্তি আমাদের বাংলার অনেক গর্বের বিষয়। 

🟥 এই পেজ এ আসার জন্যে এবং মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ! আপনি সবরকম  আপডেট পাবেন এখন এখান থেকে। আপনি দেখুন, Explore করুন আমাদের সবরকম Informational Category গুলো।

Thank You ! Visit Again !

Leave a Comment